২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২৮ শতাংশ
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নিট বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমে প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এর পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি ডলারের বেশি।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের জুলাই মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। এর মাধ্যমে টানা দুই বছরের পতনের অবসান হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আবারও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিট ইক্যুইটি মূলধন প্রবাহ ৫৫ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
একই সময়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ কমেছে ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা মুনাফা ৬৮ শতাংশ বেড়েছে।
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো তুলনামূলক কম প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ গন্তব্যে নতুন বিদেশি মূলধন আকর্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে: সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চাপ, জ্বালানির ধারাবাহিক সংকট এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশসংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতা। এসব সমস্যা সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করছে।
২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের পর ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আবারও পতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগের বড় ধরনের হ্রাস ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন মূলধন বিনিয়োগের বিষয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও আস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
Comments