৮০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড, দেখানো হবে লাইভ!
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ জনকে গুলি করে হত্যা মামলার আসামি সাবেক সেনা মনোচিকিৎসক নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর হতে চলেছে। মার্কিন ইতিহাসে এই নজিরবিহীন মৃত্যুদণ্ডের পুরো দৃশ্য সরাসরি ইন্টারনেটে লাইভস্ট্রিম করা হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রথম ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন নিদাল হাসান। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ২০০৯ সালে এই ঘাঁটিরই একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে লেজারযুক্ত পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি টেনেসি অঙ্গরাজ্যে এক নারীর ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত এল।
লাইভস্ট্রিমের সিদ্ধান্ত ও ট্রাম্পের অনুমোদন পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানান, এই মৃত্যুদণ্ড সরাসরি লাইভস্ট্রিম করা হবে এবং বিস্তারিত সময়মতো জানানো হবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফায়ারিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লাইভস্ট্রিমের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অতীতে সংবাদমাধ্যমগুলো মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য টিভিতে প্রচারের চেষ্টা করলেও আদালত তা আটকে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের গণতান্ত্রিক কোনো দেশের আইনি মৃত্যুদণ্ড এভাবে সরাসরি ইন্টারনেটে সম্প্রচার করার ঘটনা বিরল।
বিশ্বজুড়ে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বর্তমানে কদাচিৎ দেখা যায়, যা সাধারণত ইরান বা তালেবানশাসিত আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে দেখা যায়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর নির্যাতন বা লিঞ্চিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটলেও, যুক্তরাষ্ট্রে আইনিভাবে অনুমোদিত সর্বশেষ পাবলিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, "আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি দেখতে পায় এবং সবার জন্য এটি উন্মুক্ত থাকে। কারণ, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি যে কতটা মারাত্মক, তা মানুষের বোঝা দরকার।" হাসানের কোনো শেষ ইচ্ছা আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "এতে আমার কিছু যায় আসে না। আগামী ৩ ডিসেম্বর তাঁর সঙ্গে দেখা হবে।"
মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছেন।
বিকল্প পদ্ধতির পথে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩ সালের আগস্টে এক সামরিক জুরি ৪৫টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ৫৬ বছর বয়সী নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ঘটনার সময় তাঁর কয়েক সপ্তাহ পরেই আফগানিস্তানে মোতায়েন হওয়ার কথা ছিল। গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যান এবং তখন থেকেই হুইলচেয়ারে বন্দি আছেন।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের আইনি বিধান রয়েছে। গত বছর (২০২৫) সাউথ ক্যারোলাইনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এছাড়া বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন পাওয়ার জটিলতা ও তা প্রয়োগে বারবার ব্যর্থতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসন মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বৈদ্যুতিক চেয়ার এবং বিষাক্ত গ্যাসের পাশাপাশি ফায়ারিং স্কোয়াডকে জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সম্প্রতি টেনেসিতে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং কারা কর্মীদের ব্যর্থতার ফলে ওই কয়েদি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
Comments