সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারে জোর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনের মিলনায়তনে সংস্থাটির উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
এলজিইডির নির্বাহী ও সহকারী প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যা অনেক বেশি। তাই সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো একটি কাজ বাস্তবায়নে যদি ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি ৭ বা ৮ কোটি টাকার মধ্যে করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের চিন্তা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনপদের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এলজিইডির প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কর্মকর্তার হাতে। শুধু দায়িত্ব পেলেই হবে না, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সঠিক সিদ্ধান্ত উন্নয়নকে এগিয়ে নেবে, আর ভুল সিদ্ধান্ত উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করতে পারে।
তিনি কর্মকর্তাদের নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এলজিইডি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন।
বিগত ১৭ বছরে সরকারি সম্পদের অপচয় হয়েছে উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সেই অপচয় হয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের জানা আছে। জনগণের অর্থ ও সম্পদ রক্ষা করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কর্তব্য। রাষ্ট্র জনগণের যে সম্পদ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে দিয়েছে, তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রেরণার ওপরও গুরুত্ব দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকলে দায়িত্ব আরও আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা সম্ভব।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Comments