প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লি আলোচনা ফের শুরু: দ্য হিন্দু
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাময়িক ব্যাঘাতের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ফের সরকারি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা ও দিল্লি। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরে তাঁর একাধিক পূর্বনির্ধারিত কূটনৈতিক ব্যস্ততা রয়েছে। এর মধ্যেই নভেম্বরের যেকোনো একটি উপযুক্ত সময়ে তাঁর নয়াদিল্লি সফরের সময়সূচি নির্ধারণের জন্য কাজ চলছে।
উভয় দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সফরের এজেন্ডা চূড়ান্ত করছেন। এই সফরের আলোচ্যসূচিতে প্রধানত থাকছে:
-
অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করা।
-
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন।
সফরের প্রস্তুতিমূলক আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত কয়েকদিনে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন,পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী,
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন
এর আগে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সেটিতে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ঢাকা কোনো বহুপাক্ষিক কাঠামোর চেয়ে একটি 'অনুকূল ও অনুকূল সময়ে' দ্বিপাক্ষিক সফরকেই বেশি অগ্রাধিকার দেবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ঢাকা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি তাঁর একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যার ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকার জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে ঢাকা একটি 'ইতিবাচক লক্ষণ' হিসেবে দেখছে। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দমন-পীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনা এবং তাঁর শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রী-কর্মকর্তাকে এর মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
Comments