অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে: বিশেষজ্ঞ সতর্কবার্তা
আসছে অক্টোবর মাসে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তাঁর মতে, তাঁদের নিজস্ব পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী এই সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত 'স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যানিং ফর ডেঙ্গু প্রিভেনশন' শীর্ষক এক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ ও বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান।
ড. কবিরুল বাশার তার বক্তব্যে বলেন- এডিস মশা শুধু দিনে কামড়ায়—সাধারণ মানুষের এই ধারণা ভুল উল্লেখ করে কীটতত্ত্ববিদ জানান, বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে এডিস মশা রাতেও সমানভাবে কামড়াতে পারে। শীতকালে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়লেও এডিস মশা তুলনামূলক কম দেখা যায়, যার ফলে মানুষ একে অবহেলা করে। তাই খালি চোখে মশা কম দেখা গেলেও সবাইকে বছরজুড়েই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এডিস মশা দমনে প্রচলিত ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এটি মশা দমনে মোটেও কার্যকর নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই ফগিং বন্ধ করে প্রমাণভিত্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একটি এডিস মশা ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ানোর পর অন্য সুস্থ মানুষকে কামড়ালেই সঙ্গে সঙ্গে রোগ ছড়ায় না; এর জন্য কমপক্ষে দুই দিন সময় লাগে। এ কারণেই পরিবারের একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হলে কিছুদিন পর অন্য সদস্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিবারের একজনের ডেঙ্গু হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো বাড়ির সব মশা নির্মূল করার ওপর জোর দেন তিনি।
বর্ষা পরবর্তী সময়ে এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতনতা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
Comments