লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ১০টি খাবার
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে অন্যতম লিভার। খাবার হজম, বিপাকীয় কার্যক্রমসহ শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা রয়েছে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে আলাদা কোনও 'ডিটক্স' পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবারের দিকে নজর দেওয়াই বেশি জরুরি।
লিভারকে টক্সিনমুক্ত রাখতে ডিটক্স ওয়াটার বা বিশেষ কোনও পানীয় খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. জোসেফ সালহাবও লিভারের যত্নে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কমানো উচিত।
লিভার ভালো রাখতে যে ১০টি খাবার রাখতে পারেন
১. মাছ
মাছে থাকা প্রোটিনের পাশাপাশি অনেক ধরনের মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে নিয়মিত মাছ খাওয়া লিভারের জন্যও উপকারী হতে পারে।
২. আখরোট
আখরোটে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। পরিমিত পরিমাণে বাদামজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
৩. চিয়া সিড
চিয়া সিডে ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছে। সকালের নাশতায় দই বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে চিয়া সিড যোগ করা যেতে পারে।
৪. গ্রিক ইয়োগার্ট
প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের উৎস হিসেবে গ্রিক ইয়োগার্ট একটি ভালো খাবার। নাশতায় ফল বা চিয়া সিডের সঙ্গে এটি খাওয়া যেতে পারে।
৫. ব্লুবেরি
ব্লুবেরিসহ বিভিন্ন বেরিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই পরিমিত পরিমাণে এসব ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
৬. ডাল
ডালে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ফাইবার থাকে। প্রতিদিনের দুপুরের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ডাল রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
৭. টমেটো
টমেটোতে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সালাদ, তরকারি বা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে নিয়মিত টমেটো খাওয়া যেতে পারে।
৮. ব্রকোলি
ব্রকোলি ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি। এতে ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। লিভারবান্ধব খাদ্যতালিকায় এ ধরনের সবজি রাখা যেতে পারে।
৯. বাঁধাকপি
ব্রকোলির মতো বাঁধাকপিও ক্রুসিফেরাস সবজির অন্তর্ভুক্ত। এতে থাকা ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
১০. অলিভ অয়েল
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস হিসেবে পরিমিত পরিমাণে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্না বা সালাদের সঙ্গে এটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা সম্ভব।
কোন পানীয় বেছে নেবেন?
লিভারের যত্নে ডিটক্স ওয়াটারকে অপরিহার্য মনে করার কারণ নেই। বরং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এর পাশাপাশি চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি, গ্রিন টি বা মাচার মতো পানীয়ও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। এসব পানীয়তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলের মতো উপাদান রয়েছে।
মিষ্টি কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?
লিভার ভালো রাখতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও যোগ করা চিনি কমিয়ে দেওয়া ভালো। বিশেষ করে অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।
এর পরিবর্তে ফল, বাদাম, পরিমিত ডার্ক চকোলেটের মতো তুলনামূলক পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে এগুলোও পরিমাণ বুঝে খাওয়া জরুরি।
সবশেষে, লিভার সুস্থ রাখার জন্য কোনও একটি খাবার বা 'ডিটক্স ড্রিঙ্ক'-এর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখা, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাই লিভারের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ।
Comments