শিক্ষায় ‘দুই মান’ নয়, অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড চায় সরকার
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বাংলা, ইংরেজি কিংবা অন্য কোনো শিক্ষাধারায় পড়াশোনা করলেও তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মান থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মানের পার্থক্য থাকলেও শিক্ষার মৌলিক ভিত্তিতে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার একটি হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত 'স্কুল লিডারস কনফারেন্স-২০২৬'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কার্যকর ও সফল শিক্ষাপদ্ধতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব শিক্ষাব্যবস্থাকেও এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কার্যকর শেখার সময়, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের উপস্থিতির মতো বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা দরকার। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষাপদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় কার্যক্রমভিত্তিক শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও সরকার শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাপদ্ধতির কার্যকর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নতুন কারিকুলাম তৈরির ক্ষেত্রে সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ যেন ভবিষ্যতে নিজেদের বাদ পড়েছে বলে মনে না করে। সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নিয়েই নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অক্সফোর্ড একিউএর বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন, ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
Comments