দুপুরের খাবারের পরই ঝিমুনি-মাথাব্যথা, জানুন কারণ
দুপুরের খাবার শেষ করতেই চোখে ঘুম, শরীরে ক্লান্তি কিংবা মাথাব্যথা অনেকেরই নিয়মিত এমন অভিজ্ঞতা হয়। বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য বিষয়টি বেশ বিরক্তিকর। কারণ খাবারের পর ঝিমুনির সঙ্গে মাথাব্যথা যোগ হলে কাজে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
চিকিৎসকদের মতে, দুপুরের পর এমন সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন।
নেফ্রোলজিস্ট দীপক শঙ্কর রায়ের মতে, দীর্ঘ সময় পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব হিসেবে মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও ঝিমুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকে দুপুরের খাবারের পর ঘুম তাড়াতে বারবার চা বা কফি পান করেন। অতিরিক্ত চা-কফির কারণে শরীর থেকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বেশি তরল বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত ঘামের কারণেও শরীর থেকে পানি কমে যায়।
পানিশূন্যতার যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
- প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া
- মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
- ঠোঁট ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
- অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনি
- কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া
কিডনির ওপরও পড়তে পারে প্রভাব
সাময়িক পানিশূন্যতায় পর্যাপ্ত পানি বা প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত তরল গ্রহণ করলে সাধারণত উপকার পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘদিন শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে।
চিকিৎসক দীপক শঙ্কর রায় জানান, রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ এবং শরীরের পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে অতিরিক্ত পানির ঘাটতি হলে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে কিডনির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে সবার শরীরে প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ এক নয়। বয়স, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত সমস্যার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে কিডনি বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে কতটা পানি পান করা উচিত, সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Comments