ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রাখাইনে সংঘটিত নৃশংসতার জবাবদিহি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন—এই দুটি প্রক্রিয়াকে একই সঙ্গে সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশ পূর্ণ সমর্থন জানায় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে "দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট: একটি সমন্বিত পদ্ধতির সন্ধান" শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। এই অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বহুপাক্ষিক উদ্যোগের পাশাপাশি শক্তিশালী আঞ্চলিক কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হয়।
রাখাইনের অধিকাংশ এলাকা বর্তমানে মিয়ানমার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং আরাকান আর্মির অধীনে রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, তাতমাদাও ও আরাকান আর্মির সংঘাত ওই অঞ্চলকে বর্তমানে প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ১৯৭৮ এবং ১৯৯২ সালে সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পূর্বের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন সম্ভব কি না, সেটি এখন আর 'যদি'র প্রশ্ন নয়, বরং এটি 'কীভাবে' এবং 'কত দ্রুত' সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার রোহিঙ্গা বিষয়ক 'জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি' গঠন করেছে। এর মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি শরণার্থীর মানবিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় কক্সবাজারের জনগণের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কেবল হতাশা প্রকাশ না করে নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক সংকটের ভার কোনো একক দেশের একা বহন করা উচিত নয়; বরং অর্থায়ন ও দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
ফরেন সার্ভিস একাডেমির এই সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এএসএম আলী আশরাফসহ দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Comments