চাপ নয়, আনন্দ নিয়েই ভারতকে হারাতে চায় বাংলাদেশ
সেমিফাইনালে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে এড়াতে চেয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেই পরিকল্পনা অবশ্য আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
ভারত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল দল। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে অস্বস্তি ছিল। বড় সংগ্রহ তো দূরের কথা, ১০০ রান পার করতেও বেশ কয়েকবার কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ভারতের বিপক্ষে তাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি কিংবা সেমিফাইনালের চাপকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না বাংলাদেশের ব্যাটার শারমিন আক্তার সুপ্তা। বরং ভারতের মতো শীর্ষ দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগকে উপভোগ করতে চান তিনি।
শারমিনের মতে, ম্যাচটিকে চাপ হিসেবে না দেখে আনন্দের সঙ্গে খেলতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। চ্যাম্পিয়ন হতে হলে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।
২০১৮ সালের পর এই টুর্নামেন্টে আর ফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর বেশির ভাগ আসরেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙেছে একাধিকবার।
এবারও তাই গ্রুপ পর্বে ভালো অবস্থানে থেকে সেমিফাইনালে ভারতকে এড়িয়ে যাওয়াই ছিল বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে হারে সেই হিসাব বদলে যায়। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল দ্রুত উইকেট হারানো। এর প্রভাব পড়েছে দলীয় সংগ্রহেও।
তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পেলেও ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলারদের পারফরম্যান্সই বেশি স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে। সেমিফাইনালের আগে ব্যাটিং বিভাগে উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে শারমিনের বক্তব্যে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দর্শকরা চার-ছক্কার পাশাপাশি বড় শট ও দ্রুত রান দেখতে চান। তবে সব ধরনের উইকেটে একইভাবে ব্যাটিং করা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে খেলাটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিন ম্যাচেই দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে বড় পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
Comments