আবারও বেপরোয়া নদভীর কথিত ক্যাশিয়ার এস এম আহমদ হোছাইন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা একটি মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি এস এম আহমদ হোছাইনের বিরুদ্ধে এবার নতুন করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘির পাড় এলাকায় এস এম আহমদ হোছাইনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল গিয়ে এসব ঘটনা ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজন কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
খান বাহাদুর আমান আলী পরিবারের বংশধর তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, "হঠাৎ করে ১০ থেকে ১২ জন লোক সেখানে আসে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু হামলা নয়, সেখানে লুটপাটও করা হয়েছে।"
তিনি বলেন, "আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় মানুষজন কয়েকজনকে ধরে ফেলেন। পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।"
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে তারিন মহিউদ্দিন আজিম বলেন, "যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
আগেও ছিল মামলার অভিযোগ
এস এম আহমদ হোছাইনকে ঘিরে একাধিক মামলার তথ্য থাকার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৯টি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামের আজিম সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলায় এস এম আহমদ হোছাইনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার সংখ্যা এবং সব মামলার বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
'আবারও একই ধরনের ঘটনা'
পরিবারটির কেয়ারটেকার শিউলি আক্তারের অভিযোগ, এর আগেও তাঁদের ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, "এর আগেও আমাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আবারও লোকজন নিয়ে এসে একই ধরনের কর্মকাণ্ড করা হলো।"
তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
গতকালের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটকের পর থানায় নেওয়া হয়। তবে তাঁদের পরিচয় এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নতুন করে ওঠা হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এস এম আহমদ হোছাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Comments