সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ভবনসহ ৭টিতে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা
অনুমোদন না নিয়ে এবং দিঘির পাড়ের জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ করায় চট্টগ্রাম নগরীতে একটি ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। দুই দিনের এই অভিযানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর ভবনসহ মোট ৭টি ভবনে মোট ২৭ লাখ টাকা জরিমানা, একাধিক ভবন সিলগালা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জোন-২ এর আওতাধীন কোতোয়ালি ও চকবাজার থানার লালদিঘীর পাড়, আসকার দিঘীর পাড় ও চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায় চউক। বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নকশার ব্যত্যয় ও অনুমোদনবহির্ভূত কাঠামোর বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে চট্টেশ্বরী রোডে সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের ছয়তলা 'হামদর্দ বিল্ডিং'-এ তল্লাশি চালানো হয়। ভবনটির নিচতলার পার্কিং স্পেস দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পার্কিংয়ের জায়গা থেকে সব দোকান অপসারণের চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় আদালত। ভবনটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় অগ্নিকাণ্ডে তাদের নকশা পুড়ে গেছে। তবে তারা অনুমোদনের কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পেরেছেন।
এদিনের অভিযানে সিপিডিএল, পি টু পি ও জুমাইরাসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নির্মিত মোট সাতটি ভবনে অসঙ্গতি পায় চউক। এসব ভবন থেকে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি একটি ভবন সিলগালা এবং দু'জন ভবন মালিকের কাছ থেকে মুচলেকা আদায় করা হয়। অভিযানে চউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-২ এর চেয়ারম্যান মোহাং মনজুর হাসান, অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন ও সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. হামিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ এলাকায় জোন-১ এর অভিযানে তিনটি ভবন সিলগালা এবং একটি ভবনকে ১২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বেবি সুপার মার্কেট এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্লট মূল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত স্থাপনা বানিয়ে শহরটাকে জঞ্জাল করা হয়েছে। নগরীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী হলেও কেউ পার পাবে না। চট্টগ্রামকে সবুজ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন জানান, ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য মালিকপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশের পরও নির্মাণকাজ চালু রাখায় অভিযান চালিয়ে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। নগরীর আসকার দিঘির পাড়ে সিডিএর অনুমোদন না নিয়েই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সিডিএর সক্ষমতা অনুযায়ী ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জরিমানা, সিলগালা কিংবা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন।
কোনোভাবেই চট্টগ্রাম নগরীতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
Comments