সীতাপাহাড়ে পথ হারানো ৪ পর্যটক উদ্ধার
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে সীতাপাহাড় এলাকায় পথ হারিয়ে আটকে পড়া চার পর্যটককে ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কাপ্তাই বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, সকালে চট্টগ্রাম থেকে আসা চার পর্যটক কাপ্তাইয়ের বালুচর এলাকা দিয়ে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে সীতা পাহাড়ে ওঠেন। পরে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়। এর মধ্যে সন্ধ্যা নেমে আসায় তারা পথ হারিয়ে ফেলেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চার পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসেন। তবে অনেক পর্যটক স্থানীয় গাইড ছাড়া কর্ণফুলী নদী, কাপ্তাই লেক ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চলাচল করেন। এতে পথ হারানো, পাহাড়ি দুর্ঘটনা, পানিতে দুর্ঘটনা এবং বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে কাপ্তাইয়ের বালুচর, সীতাপাহাড়, ব্যাঙছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় হাতির চলাচল ও অবস্থান রয়েছে। এসব এলাকায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করা হলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পাহাড়ি পথে চলাচল এবং বিকেল ৫টার পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা বা নির্জন বনাঞ্চলে প্রবেশ এড়িয়ে চলা উচিত। অপরিচিত পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় গাইড ছাড়া না যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া হাতির চলাচল বা অবস্থানের এলাকায় প্রবেশ না করা, বন বিভাগের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নির্দেশনা মেনে চলা, নৌভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোবাইলে পর্যাপ্ত চার্জ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো পর্যটক পথ হারিয়ে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কাপ্তাইয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নির্দেশনা, স্থানীয় গাইড ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হলে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
Comments