কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের জন্মদিন আজ
একজন মানুষ—কখনো হাতে কলম, কখনো ক্যামেরা; কখনো সংবাদপত্রের পাতায়, আবার কখনো মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে উঠেছেন পর্দায়। বলছি কালজয়ী কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের কথা।
১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ খান।
১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ 'সূর্যগ্রহণ'প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জহির রায়হানের সৃজনশীল যাত্রা।
এরপর 'শেষ বিকেলের মেয়ে', 'হাজার বছর ধরে', 'আরেক ফাল্গুন', 'বরফ গলা নদী'—এক এক করে তাঁর সাহিত্যকর্মে উঠে আসে সমাজ, মানুষ, শোষণ ও সংগ্রামের গল্প।
ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল তাঁর লেখায়। যার অন্যতম উদাহরণ 'আরেক ফাল্গুন'।
শুধু সাহিত্য নয়, সাংবাদিকতাও ছিল তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিভিন্ন পত্রিকা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সাংবাদিকতা ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেন।
তবে কলম আর সংবাদপত্রের পাতায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি জহির রায়হান। সময়, সমাজ আর মানুষের গল্পকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে এরপর তিনি পা রাখেন চলচ্চিত্রের জগতে।
১৯৫৭ সালে সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন জহির রায়হান। আর ১৯৬১ সালে 'কখনো আসেনি' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
এরপর 'কাঁচের দেয়াল', 'বেহুলা', 'আনোয়ারা', 'দুই ভাই'—একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এই কিংবদন্তি।
আর 'জীবন থেকে নেয়া' হয়ে ওঠে তাঁর চলচ্চিত্র-চিন্তার অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ। একটি পরিবারের গল্পের ভেতর দিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
তবে মুক্তিযুদ্ধেই জহির রায়হানের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা ফুটে ওঠে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় গিয়ে নির্মাণ করেন প্রামাণ্যচিত্র 'Stop Genocide'।
পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এই চলচ্চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের গণহত্যার ভয়াবহতা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জন্ম নেওয়া এই সৃষ্টিশীল মানুষটি ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ হন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আজও বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর ও অমীমাংসিত অধ্যায়। তাই ৯১ বছর পরও জহির রায়হান আছেন—তাঁর লেখায়, তাঁর চলচ্চিত্রে, আর বাঙালির ইতিহাস ও চেতনায়।
Comments