মার্কিন সেনা হত্যা বা ধরিয়ে দিলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। কোনো ইরানি নারী এ কাজ করলে পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ 'আর্থিক জিহাদে' অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় এই পুরস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, কোনো ব্যক্তি 'আগ্রাসী মার্কিন সামরিক সদস্যকে' হত্যা বা আটক করে ইরানি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলে তাকে ৩০ হাজার ডলার বা ৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান দেওয়া হবে। কোনো ইরানি নারী এ কাজ করলে তিনি দ্বিগুণ অর্থ পাবেন।
তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন হত্যা কিংবা আটকের চেষ্টা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত নির্দেশনা দেননি হাতামি।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সেনাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র দ্বিগুণ দামে কিনে নেওয়া হবে এবং ওই ব্যক্তিকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে একটি পরিকল্পিত জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যেও ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের কোনো তথ্য নেই। গত এপ্রিলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর একজন মার্কিন বিমানসেনাকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছিল।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমির হাতামি। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই।
গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে। বর্তমানে সংঘাতের বড় অংশ দক্ষিণ ইরান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবিও রয়েছে। প্রণালিটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এর আগে আমির হাতামি হরমুজ প্রণালি নিয়ে 'বিপজ্জনক রসিকতা' না করতে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। ইরানকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা বড় ভুল বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের কেউই ইরানের ভেতরে মারা যাননি; জর্ডান ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
Comments