শিবালয়ে নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ১৫ আগস্টের খিচুড়ি আয়োজনের অভিযোগ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আয়নাল হকের উদ্যোগে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আয়নাল হক বলেছেন, ১৫ আগস্ট সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই এবং আগের নির্ধারিত আয়োজনটি সময়ের অভাবে করা সম্ভব না হওয়ায় শুক্রবার খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের আগ শিমুলিয়া গ্রামের কালীবাড়ি এলাকায় এ খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করা হয়। আয়নাল হক ওই গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় কয়েকজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, আয়নাল হক একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। ওই সময়ে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এ ছাড়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
তাঁদের অভিযোগ, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আয়নাল হক বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। এর মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ১৫ আগস্টের খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি কর্মী বলেন, আয়নাল হক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বৈত নাগরিক এবং দুই দেশে ভিন্ন নামে পরিচিত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তাঁরা কোনো নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি মো. আবদুল আওয়াল বলেন, 'আয়নাল হক আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশের নাগরিক এবং দুই দেশে দুই নাম ব্যবহার করেন বলে আমরা জানি। আগামীকাল বিএনপির পক্ষ থেকে বাধা আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এক দিন আগেই নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ১৫ আগস্ট পালন করার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে।'
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আয়নাল হক। তিনি বলেন, 'আমি কখনো আওয়ামী লীগ করিনি। আগে বিএনপি করতাম, এখন জামায়াতের সদস্য। ১৫ আগস্ট কী, সে সম্পর্কেও আমার ধারণা নেই। গত শুক্রবার খিচুড়ি আয়োজনের কথা ছিল। সময় স্বল্পতার কারণে তখন করতে পারিনি। তাই আজ আয়োজন করেছি।'
আয়নাল হক জামায়াতের সদস্য—এমন দাবির বিষয়ে শিবালয় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবু তালেব বলেন, 'আয়নাল হক নামে শিমুলিয়ায় আমাদের কোনো সদস্য নেই। আমাদের সদস্য হতে হলে বেশ কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আয়নাল হক সম্পর্কে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। বিষয়টি আরও যাচাই করে জানানো হবে।'
এদিকে খিচুড়ি আয়োজনের খবর পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, 'আমি বিষয়টি শুনেছি। সেখানে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আয়োজনের মূল কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।'
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে আয়নাল হকের রাজনৈতিক পরিচয় এবং খিচুড়ি আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ফলে আয়োজনটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
Comments