সারের সংকট শুরু?
গ্যাসের ঘাটতি কৃষি খাতে বড় সংকট ডেকে এনেছে। ইউরিয়া সার তৈরি হয় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। গ্যাস এখানে কেবল কারখানা চালানোর জ্বালানি নয় — সারের মূল কাঁচামালই গ্যাস।
তাই গ্যাস কম পড়লে সরকারকে ভাগ করে দিতে হয়: ঘরের চুলা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, নাকি সার কারখানা। এটি সত্যিকারের কঠিন সিদ্ধান্ত, কারণ কোনো দিকই বাদ দেওয়ার মতো নয়।
সেই ভাগাভাগিতে সার কারখানা বারবার পিছিয়ে পড়েছে।
দেশের সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে এখন চালু আছে মাত্র দুটি। বাকি পাঁচটি গত ৪ মার্চ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
ফল কী দাঁড়াল? গত অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা ছিল ৬৬ লাখ টন। রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোয় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬ হাজার টন।
অর্থাৎ চাহিদার ৮৩ শতাংশের বেশি মেটাতে হয়েছে আমদানি করে। আর এখানেই বৃত্তটি সম্পূর্ণ হয়।
আমদানি মানে ডলার। গত অর্থবছরের এগারো মাসেই শুধু সার আমদানিতে খরচ হয়েছে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার — আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি। সেই একই ডলার, যার বড় একটি অংশ আগেই চলে যাচ্ছে তেলের বিল মেটাতে।
আর আমদানি মানে সময়ও। বিদেশ থেকে সার আনতে দরপত্র দেওয়া থেকে জাহাজ বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত লেগে যায় অন্তত দুই থেকে তিন মাস।
ফসলের মৌসুম কিন্তু অপেক্ষা করে না। এই পুরো হিসাবটিই গত ১০ অগাস্ট একটি মহাসড়কে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ১০ অগাস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তিন শতাধিক কৃষক সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। আটকা পড়েছে শতাধিক ট্রাক। ইউএনও দুই-তিন দিনের মধ্যে সার পৌঁছানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
সরকার নির্ধারিত দামে টিএসপির ৫০ কেজির বস্তা ১,৩৫০ টাকা। লালমনিরহাটে কৃষকদের কিনতে হয়েছে ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায়।
রাজশাহীর নওহাটার এক অনুমোদিত ডিলার সারা জুলাই মাসে পেয়েছেন ২২ বস্তা টিএসপি। তাঁর এলাকায় ৪২টি মৌজায় কয়েক হাজার কৃষক আছেন।
তাই এই সংকট আর "সামনে আসছে" বলা যায় না, এটি চলে এসেছে।
Comments