গ্যাস সংকটে ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ
তীব্র গ্যাস ও এলএনজি সংকটে দেশের শিল্পখাতে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্টিল, সিমেন্ট, কাচ, সিরামিক ও বস্ত্রসহ গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব মিল-কারখানা বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, উৎপাদন চালানোর মতো ন্যূনতম গ্যাসের পাশাপাশি নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছে। ফলে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, চিনি, সিমেন্ট, পেপারসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টি কে গ্রুপের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানাগুলোও পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমেছে। গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ডিজেল ও বিকল্প বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে।
হবিগঞ্জে ১৭১টি শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন পুরোপুরি থেমে গেছে। এতে দেড় লাখের বেশি শ্রমিক কাজহীন হয়ে পড়েছেন। গাজীপুরেও গ্যাস সংকটে প্রায় ৫২৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বড় কারখানাগুলো বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করলেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প। অনেক টেক্সটাইল মিল পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও চালু থাকা কারখানাগুলোতেও উৎপাদন ৩০ শতাংশের বেশি হচ্ছে না। ডাইং, ফিনিশিং ও সাইজিংয়ের মতো গ্যাসনির্ভর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়ায় পোশাক রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের ফলে উৎপাদন, পণ্য সরবরাহ ও রপ্তানি আয়—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত শিল্পখাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।
Comments