মার্কিন আদালতে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা খারিজ
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আনা ফৌজদারি জালিয়াতি ও ঘুষের মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ব্রুকলিনের জেলা জজ নিকোলাস গারোফিস বিচার বিভাগের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলা খারিজ করেন। তবে বিচার বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত একে 'উদ্বেগজনক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মামলা খারিজ করা হলেও মার্কিন বিচার বিভাগের ডেপুটি অ্যাসোসিয়েশন অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন বিচারক। বিচারক উল্লেখ করেন যে, মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে একতরফা আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে আদানির ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বিচার বিভাগ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফৌজদারি মামলা থেকে রেহাই পেলেও অন্যান্য আর্থিক জালিয়াতি ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে আদানি গ্রুপকে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা দেওয়ানি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গৌতম আদানি ৬০ লাখ ডলার এবং তাঁর ভাগ্নে সাগর আদানি ১ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভাঙার অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে 'আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড' যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ (২৭৫ মিলিয়ন) ডলার দিতে সম্মত হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া
২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে ভারতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ পেতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান এবং সেই তথ্য গোপন করে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
আদালত মামলা খারিজ করার পর গৌতম আদানি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
তবে বিচারক গারোফিস স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই মামলা খারিজের অর্থ আদানিকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিচার প্রক্রিয়ার এমন নিষ্পত্তি আইনের শাসন ও সমতার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে—তা মূল্যায়নের ভার তিনি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।
Comments