প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বিমসটেকের দাওয়াত দেওয়া হয়নি; বরং বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যা সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল। সেই চিঠিতেই মূলত আমন্ত্রণটি রয়েছে এবং বিষয়টি যথাসময়ে বিবেচনা করা হবে। তবে বর্তমান বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বৈঠকে যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে
ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকার এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ইতিবাচক সাড়া দেবে।
শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বিষয়ে ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, তার সবই হস্তান্তর করা হয়েছে। এই স্পর্শকাতর মামলার আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্যও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি যোগ্য আদালত আইনগতভাবে তাকে দণ্ড দিয়েছেন। তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আদালতের মাধ্যমেই রয়েছে। কিন্তু তাকে আশ্রয় দেওয়া বা বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো কাজ ভারত সরকার যেন ভবিষ্যতে আর না করে, সে বিষয়ে ঢাকাসহ সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সীমান্ত হত্যা বা পুশ-ইন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলেও এগুলো মূলত প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের নয় বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Comments