সংঘর্ষের ছবি দেখালে টিভি চ্যানেল বন্ধ’: কাদের-আরাফাতের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের মধ্যকার এই ফোনালাপটি মামলার শুনানিতে উপস্থাপন করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চতুর্থ দিনের যুক্তিতর্ক চলাকালে এই কল রেকর্ডটি পেশ করা হয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ এ আরাফাতের কথোপকথনটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
ফোনালাপের আংশিক প্রতিলিপি
ওবায়দুল কাদের ও মোহাম্মদ এ আরাফাতের কথোপকথনের আলোচিত অংশটি নিচে তুলে ধরা হলো:
ওবায়দুল কাদের: "এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা..."
আরাফাত: "ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই একটা। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবেন না অফ করে দিতে সাথে সাথে।"
ওবায়দুল কাদের: "আজকে যেন কোনো সংঘাতের খবর না দেয়।"
আরাফাত: "আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব......। আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসা রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন যে, টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোন পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এই ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই।"
মামলার অন্যান্য আসামি
এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আরও ছয়জন আসামি রয়েছেন। তারা হলেন: আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ), মোহাম্মদ এ আরাফাত (সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী), শেখ ফজলে শামস পরশ (সভাপতি, যুবলীগ), মাইনুল হোসেন খান নিখিল (সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ), সাদ্দাম হোসেন (সভাপতি, ছাত্রলীগ), শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
Comments