ভারত ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নীতি অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে: রুহুল কবির রিজভী
পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের আন্দোলনের চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের দিল্লিতে 'সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস'-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা পলাতক এবং ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভিডিও বার্তা সম্ভব না হলেও তাকে অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
ভারত এমন এক নীতি নিয়ে চলছে, যেন অন্য দেশের কোনো পলাতক ও দাগি আসামি 'ভারতপ্রেমিক' হলে তার সব অপরাধ ক্ষমাযোগ্য—এমন মন্তব্য করে তিনি এই অবস্থানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিস্টের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা চললেও, দেশের সম্পদ লুট, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ আমলের দীর্ঘ বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে দমন-পীড়ন, গুম, হত্যা এবং বিরোধী মত দমনের এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এই সময়ে ছাত্র-জনতা, সাংবাদিক ও শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের নির্মম শিকার হয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়েছে। দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলন কোনোভাবেই থেমে থাকবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
Comments