প্রধানমন্ত্রী নয়,মোদির ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত: ককরোচ পার্টির অভিজিৎ দীপকে
দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে 'ইনফ্লুয়েন্সার' হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই নরেন্দ্র মোদির জন্য বেশি মানানসই বলে মন্তব্য করেছেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একইসঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের করা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে সারা দেশে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। মূলত সেই ভিডিওগুলোর প্রেক্ষিতেই মহারাষ্ট্রে নিজ শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই মন্তব্য করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
এর আগে একই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মন্তব্য করেছিলেন যে, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলালে জেন-জি প্রজন্মের সমর্থন মিলবে না; বরং প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার নয়, হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।
লোকসভায় সম্প্রতি পাস হওয়া প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ দীপকে। তার মতে, দেশে অনেক ভালো ভালো আইন তৈরি হয়েছে, তবে যারা তা বাস্তবায়ন করবেন তাদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনো আইনই কাজে আসে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মানুষ ভেবেছিল দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু প্রথম শুনানিতেই সিবিআইয়ের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। তাহলে শুধু আইন ঘোষণা করে লাভ কী?'
নিট প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সিজেপির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সিজেপির দাবি, সে সময় সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
তবে সরকারের সেই আশ্বাসের পরও এখনো বহু শিক্ষার্থীকে আটক ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'যদি মামলা প্রত্যাহার করা না হয় এবং শিক্ষার্থীদের এভাবে হয়রানি করা চলতে থাকে, তবে আমরা আগের চেয়েও বড় আন্দোলনে নামব।'
আন্দোলনের সময় পুলিশি লাঠিচার্জ ও পেলেট গান ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'একজন শিক্ষার্থীর পরিবারে অন্তত চারটি ভোট থাকে। শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট বা লাঠিচার্জ করা হলে সরকার সেই পরিবারগুলোর ভোট হারাবে। এখনো সময় আছে নিজেদের শুধরে নিন, নতুবা নির্বাচনে ছাত্ররাই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।'
অভিজিৎ দীপকের এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Comments