লঘুচাপে উত্তাল সাগর: সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে 'সুস্পষ্ট লঘুচাপে' পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পায়রাসহ দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সাগর উত্তাল থাকায় জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।
উপকূলীয় জেলাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি:
পটুয়াখালী: আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই পটুয়াখালী জেলাজুড়ে ঝোড়ো হাওয়া ও টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার সব নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় গভীর সাগরে অবস্থানরত শত শত মাছ ধরার ট্রলার মৎস্যবন্দর আলীপুর ও মহিপুরের শিববাড়িয়া নদীতে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে এসেছে। আকস্মিক এই জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
বরগুনা: এদিকে বরগুনার প্রধান তিন নদী—পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বরের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির উচ্চতা বাড়ায় জেলাটির বড়ইতলা ও পুরকাটা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জোয়ারের পানির নিচে সড়ক চলে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে যানবাহনগুলো প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে, যার ফলে চরম বিঘ্ন ঘটছে যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
Comments