শহীদ জিয়ার এই খুনীকে ব্রাশফায়ারে দেওয়া হোক
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মূল ঘাতক ও পরিকল্পনাকারী খুনি মোজাফফরকে ব্রাশফায়ারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হোক—এটাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। শহীদ জিয়ার খুনের পেছনে ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা হিসেবে ভারত জড়িত। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশকের এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বাংলাদেশে। আমি দেশের জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানকে আহ্বান জানাচ্ছি, বিষয়টি যেন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা হয়।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পলাতক থাকার পর গত মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করেন। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর এই মোজাফফরই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে জানান, "The President has been killed."
হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। অন্য এক ঘাতক ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেফতার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও, মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পলাতক অবস্থায় মেজর মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে এই মোজাফফর সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
অবশেষে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েন এই ঘাতক। তার এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও জঘন্যতম রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি হলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশের সাধারণ মানুষের তীব্র আকাঙ্ক্ষা—এই ঘৃণ্য ঘাতকের যেন কঠোরতম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। আমরা চাই—তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে প্রকাশ্যে ব্রাশফায়ার করে তা যেন কার্যকর করা হয় এবং সেটি যেন সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়।
লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বাংলাপোস্ট ও সভাপতি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন
Comments