ঢাকায় এবার মনোরেল: প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি এবার 'মনোরেল' চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত পাঁচটি করিডোরে প্রায় ৭৯.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ মনোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ২০২৯ সালের মধ্যে নগরবাসীকে এই আধুনিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এরই মধ্যে প্রকল্পটির প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার (প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি) জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ডিটিসিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুটে মনোরেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রুটগুলো হলো: ১. বিমানবন্দর - জলসিঁড়ি ২. বিমানবন্দর - সাভার ৩. মোহাম্মদপুর - পাগলা ৪. মধ্য বাড্ডা - তুলতা ৫. রামপুরা - ডেমরা
সংকীর্ণ সড়ক ও ঘনবসতির কারণে পুরান ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহন চালু করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক একটি মনোরেল করিডোরকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যাতে এই অঞ্চলটিকে মূল মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য সরকারের কাছে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য রুট, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা, ব্যয় এবং বিদ্যমান ম্যাস ট্রানজিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
সমীক্ষাটি সম্পন্ন করার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সম্প্রতি বুয়েট এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে মনোরেল খাতে বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ডিটিসিএর সমন্বয় কমিটির সদস্য ড. মো. হাদিউজ্জামান জানান, মনোরেলকে মেট্রোরেলের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে না। বরং এটি এমআরটি লাইন-৬ (উত্তরা-মতিঝিল) সহ অন্যান্য মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি শক্তিশালী 'ফিডার সার্ভিস' হিসেবে কাজ করবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দুটি রুট চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়ন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নাকি টার্নকি—কোন মডেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সবচেয়ে লাভজনক হবে, তাও এই সময়ে নির্ধারণ করা হবে।
প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর প্রকল্প কমিটি গঠন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ, বিস্তারিত নকশা ও ব্যয় নির্ধারণ এবং দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে মূল মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে। এছাড়া বাংলাদেশ-জাপান অষ্টম যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় উপস্থাপনের জন্য আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুতের কাজ চলছে, যার আওতায় নারায়ণঞ্জেও মনোরেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন,'মনোরেল প্রকল্পটি এখন প্রাথমিক পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে ২০২৯ সালের মধ্যেই ঢাকাবাসীকে এই সেবার আওতায় নিয়ে আসতে পারব।'
Comments