টানা বৃষ্টি ও ঢলে ডুবছে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা: পানিবন্দি সাড়ে ৯ লাখ মানুষ, মৃত ৩৯
চট্টগ্রাম বিভাগে টানা বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে এক ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে লাশের মিছিল। গত কয়েক দিনের দুর্যোগে বিভাগের পাঁচ জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে, সেখানে মারা গেছেন ২৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে আট জন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙ্গামাটিতে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার করাল গ্রাসে পাঁচ জেলার প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে। এই দুই উপজেলারই অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ এখন পানির নিচে, সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। বাঁশখালীর বাহারছড়ায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই নিষ্পাপ শিশু।
পুরো চট্টগ্রাম জেলায় ১৬টি উপজেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার এখন চরম সংকটে। ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা সম্পূর্ণ প্লাবিত হওয়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫৩ জন মানুষ। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকায় এখনো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গতদের আর্তনাদ পৌঁছাচ্ছে না বাইরে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে আজ নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে সেনা সদস্যরা। এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সরকারিভাবে বন্যার্তদের জন্য ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে দুর্গতদের তুলনায় এই সাহায্য একেবারেই অপ্রতুল বলে দাবি স্থানীয়দের।
Comments