টাঙ্গাইলে আর্জেন্টিনা-মিশর খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ফুটবল দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ হয়।
এতে তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা হলে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন।
এর পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৭ শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিল। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও বলেন, উপাচার্য এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
Comments