টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে ময়মনসিংহ নগরী, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা
টানা ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহের জনজীবন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে আট ঘণ্টায় নগরীতে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি বছরে জেলায় সর্বোচ্চ। এই অতিবৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি, হাসপাতাল এলাকা, বাজার ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখন থৈ থৈ করছে পানিতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলো হলো:সানকিপাড়া ও আকুয়া, গোলকিবাড়ী ও বলাশপুর, চরপাড়া ও খাগডহর, গাঙ্গুলীরপাড়, বাঁশবাড়ি কলোনি, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় এবং কেওয়াটখালী।
বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে চলে আসায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দাদের অনেককেই রাতভর ঘর থেকে পানি সেচে ফেলতে হয়েছে।
বাঁশবাড়ি কলোনির ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ জানায়, ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় সে আজ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। সারারাত ঘুমাতে না পেরে পরিবারের সবাই মিলে ঘরের পানি সেচতে হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা। জামালপুর থেকে আসা আবুল বাশার জানান, চরপাড়া মোড় থেকে চত্বরে হাঁটুপানি জমে থাকায় মাত্র কয়েকশ মিটার পথ পাড়ি দিতে অ্যাম্বুলেন্সের এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ ও হামিদা আক্তার অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণেই প্রতিবছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর মহানগর সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, "পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নালা পুনঃখনন ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরিকল্পিত নগরায়ণই এই দুর্ভোগের মূল কারণ।"
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনুজ্জামান সরকার দাবি করেছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, 'প্রধান সড়কের চেয়ে অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি বেশি জমছে। বহুতল ভবনের কিছু মালিক ও বাসিন্দা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও নির্মাণসামগ্রী ফেলায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে।' যেসব এলাকায় সমস্যা বেশি, সেখানে অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি নগরবাসীকে ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।
Comments