স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর হয়নি: চিফ হুইপ
বর্তমান সরকারের ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের এক অনন্য দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এত বড় জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনও প্রণীত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের পটভূমি তুলে ধরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, "আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে একটি সম্পূর্ণ ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অর্থনীতি পেয়েছি। অতীতে মেগা প্রকল্পের নামে যে বিপুল দুর্নীতি, অনিয়ম ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তার মারাত্মক প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। একদিনেই ডলারের দাম ৭ টাকা বাড়াতে হয়েছে এবং কয়েকটি ব্যাংক চরম সংকটে পড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়ে তাদের টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনমূলক ও সস্তা জনপ্রিয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী ও জীবনমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলো প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে পানির নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনার আমূল উন্নয়ন ঘটানো।
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বাজেটে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি খাদ্যপণ্যের মোট ৬৩টি আইটেমে কোনো ধরনের কর বাড়ানো হয়নি।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া কৃষক কার্ড, নারী ও প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং কৃষি সেচের সুবিধার্থে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় এবার এক ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল আগাম অংশগ্রহণ করেছে এবং অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি জানান, 'আইন অনুযায়ী বিরোধী দলকে ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও, আমরা সময় বাড়িয়ে তাদের প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছি। এমনকি বিরোধী দলীয় নেতার তাৎক্ষণিক অনুরোধ রক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।'
সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের তরুণ যোদ্ধাদের অসীম সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত সাহসী ও দেশপ্রেমিক।'
রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, 'অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো সংস্কার আনতে হলে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। আশা করি, আমরা সংসদের সবাই মিলে দেশের প্রয়োজনে একটি যুগোপযোগী সংবিধান সংশোধনী আনতে পারব।' জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
Comments