আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদায়: পাঁচ শহর জুড়ে ছয় দিনের শোকযাত্রা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক আকস্মিক ও ভয়াবহ যৌথ হামলায় চিরতরে থমকে গেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবনস্পন্দন। সেই শোকের ছায়া পেরিয়ে এবার তাকে চিরবিদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইরান জুড়েই এখন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও কোটি মানুষের কান্নার রোল। দেশটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া। টানা ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো ইরান জুড়ে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন পরিবেশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই নেতার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুধু ইরানের মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, তা ছুঁয়ে যাবে প্রতিবেশী ইরাকের মাটিও। ভক্ত ও অনুসারীদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দিতে মোট পাঁচটি প্রধান শহরে সম্পন্ন হবে এই শোকযাত্রা। রোববার তেহরানের বিখ্যাত গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে জানাজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার তেহরানের রাজপথে বের হবে বিশাল শোক মিছিল। ৭ জুলাই কফিন নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ। এরপর সীমান্ত পেরিয়ে ইরাকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র নগরী নজফ এবং কারবালায় নেওয়া হবে তার মরদেহ। ৯ জুলাই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ দাফন করা হবে তাঁর প্রিয় জন্মমাটি মাশহাদ শহরে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির এই মহাপ্রস্থানের ক্ষণে তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে ইরান এবং ইরানের বাইরে থেকে লাখো মানুষের ঢল নামছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই শোকযাত্রায় প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। বিশাল এই জনসমুদ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
এই শোকের দিনে ইরানের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব। জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তের প্রতিনিধিরা। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি এবং বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতিমধ্যেই সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, এই শোকাবহ বিদায়লগ্নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন।
একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে লাখো চোখ অশ্রুসিক্ত করে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে যাচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
Comments