বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ৫% করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কর সুবিধার বিনিময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভাষা শিক্ষা ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব স্থাপন করতে হবে এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।"
বাজেটে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন (কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে আলোচিত) বিধানটি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়টি সুরাহা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "দেশে অনেকেই প্রকৃত মূল্যে জমি নিবন্ধন করেন না, মৌজা মূল্যে করেন। ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য দেখাতে না পারায় করদাতাদের ঝামেলা পোহাতে হয়। তাঁদের ঝামেলামুক্ত করতেই এই বিধানটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কেউ কেউ এটাকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাই জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই প্রস্তাবিত বিধানটি প্রত্যাহার করার জন্য আমি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
পাশাপাশি করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি মিউটেশনের ক্ষেত্রে টিআইএন (TIN) সনদ বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় সেটিও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কিছুটা রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, "সাধারণত এই দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত শারীরিকভাবে না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের (বিরোধী দলের) পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।"
ব্যক্তিগত করদাতাদের করের বোঝা লাঘব করে স্বস্তি দিতে প্রস্তাবিত বাজেটের আয়কর অব্যাহতি সীমা পুনর্নির্ধারণের জন্য অর্থমন্ত্রীকে প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সুপারিশকৃত নতুন সীমাগুলো হলো:
- ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর: করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা।
- ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছর: করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা।
- ২০৩০-৩১ অর্থবছর: করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা।
বক্তব্যের শেষ অংশে দেশের জলবায়ু ও কৃষি খাতের সুরক্ষায় বড় এক পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে জলবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা বাড়াতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার।
Comments