মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় জব্দ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই তহবিল ছাড়ের বিষয়ে দুই দেশ একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের প্রথম তাৎক্ষণিক ফলাফল।
সোমবার (২২ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ বলেন, 'জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত হয়েছে।'
গালিবাফ জানান, এই ১২ বিলিয়ন ডলার মূলত ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি আলাদা কিস্তিতে গঠিত, যা অতীতের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে ছিল। সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে প্রধান প্রধান অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, এই বিশাল তহবিল ছাড় পাওয়া তার মধ্যে অন্যতম।
চুক্তির আওতায় চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপজাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আপাতত প্রত্যাহার থাকবে। এই সুবিধা ব্যাংকিং, বিমা এবং পণ্য পরিবহন (শিপিং) খাতের ওপরও কার্যকর হবে।
গালিবাফের মতে, বৃহত্তর এই সমঝোতার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ 'হরমুজ প্রণালি'-তে সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপসহকারী সচিব হেনরি এংশার মনে করেন, সাম্প্রতিক নৌপরিবহন পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,'দুই পক্ষই দেখাতে চায় যে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, অথবা অন্তত তারা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আসলে কী ঘটছে তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো অর্থের প্রবাহ শুরু হওয়া এবং তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা। তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করেছে। এর মানে হলো, অর্থপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাদের প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান একদিকে যেমন নিজেদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও দর-কষাকষির ক্ষমতা শক্ত করতে চাইছে।
Comments