রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জোরাল বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান
বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আরও জোরাল বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের 'ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট' এর এক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। একই সাথে তিনি সংঘাত প্রতিরোধে বিশ্বনেতাদের অধিক বিনিয়োগ করার এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমসাময়িক বৈশ্বিক সংকটের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানিসহ নানাবিধ অপব্যবহারের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। এই ধরনের আধুনিক ডিজিটাল হুমকি ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, "জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষায় এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতে বর্তমানে যে বৈশ্বিক অর্থায়ন সংকট তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই
জাতিসংঘের এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ভিয়েতনামের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় প্রতিনিধি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
Comments