নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৩৫
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা 'দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে' এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।
নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটিতে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা'য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)।
ভোররাতে আকস্মিক এই হামলায় বিমানবন্দরের সেনা ঘাঁটি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে হামলাকারীদের তীব্র গোলাগুলি হয়। এতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, ২২ জন হামলাকারী সন্ত্রাসী, ১১ জন সেনাসদস্য ও ২ জন বেসামরিক নাগরিক
নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৪ জন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আটককৃতদের কাছ থেকে আরপিজি-৭ রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও হাজার হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় বিকট বিস্ফোরণ এবং টানা গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে। লাওয়ালি সালহা নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের শব্দকে কোনো যানবাহনের টায়ার বিস্ফোরণ মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে অবিরাম গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিমানবন্দরটি নাইজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বেসামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি এখানে নাইজার সেনাবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটি রয়েছে। সাহেল অঞ্চলের তিন দেশ— নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট 'অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)'-এরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এখানে। কৌশলগত কারণে বিমানবন্দরটিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় রয়েছে, যা নজরদারির জন্য ৩৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত।
কট্টরপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করছে নাইজার। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও এই বিমানবন্দরে আইএস-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছিল, যেখানে ১ জন সেনাসদস্য ও ২০ হামলাকারী নিহত হয়। বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে থাকা নাইজারে এই সর্বশেষ হামলার পর জেএনআইএমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির যৌথ বাহিনী।
Comments