হত্যা মামলা: অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর
জুলাই আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ জুন) দুই পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৪ জুন রবিবার এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো (শো-অ্যারেস্ট) হয়েছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানার নীলক্ষেত এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এই ঘটনায় নিহত ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
অধ্যাপক বারকাতের পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী বাবুল মিয়া ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন। শুনানিতে আইনজীবী বাবুল মিয়া উল্লেখ করেন, "গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় আপিল বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে (পাসপোর্ট জমা দেওয়া) জামিন পেয়েছিলেন আবুল বারকাত। কিন্তু কারাগার থেকে মুক্তির আগমুহূর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। এই ঘটনার সাথে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
ব্যারিস্টার সারা হোসেন ড. বারকাতের বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আদালতের প্রতি মানবিক আবেদন জানান। তিনি যুক্তি দেন, "আসামির সামাজিক ও পেশাগত অবস্থান বিবেচনায় এই ধরনের সহিংসতার ঘটনার সাথে তার জড়িত থাকার কোনো সুযোগ নেই এবং এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।"
অপরদিকে, জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সাথে আসামির পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছেন। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি ও শুনানি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি ও আত্মসাতের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেই থেকে তিনি টানা কারাবন্দি রয়েছেন।
Comments