অপরিকল্পিত বিতরণ ব্যবস্থার খেসারত দিচ্ছেন গ্রাহক, নভেম্বরে আসছে রূপপুরের বিদ্যুৎ: জ্বালানিমন্ত্রী
দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা থাকার পরও অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পেছনে বিতরণ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, "বিগত সরকারের অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ লাইন সম্প্রসারণের খেসারত এখন সাধারণ জনগণকে দিতে হচ্ছে।"
আজ শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর আফতাবনগরে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
একটি স্থিতিশীল বিদ্যুৎব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—এই তিন খাতের সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, 'অতীতে বিদ্যুৎ খাত সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে খাতগুলোর মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বিতরণ পর্যায়ের সীমাবদ্ধতায় অনেক এলাকায় সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ একে 'লোডশেডিং' মনে করলেও, মূলত বিতরণ লাইনের কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটা ঘটছে।'
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'আগের সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার রাজনৈতিক উদ্যোগ নিলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেয়নি। একটি আদর্শ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা উচিত। অথচ পল্লী বিদ্যুতের অনেক লাইন ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এই অপরিকল্পিত লম্বা লাইনগুলো শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সমস্যা করছে না, বরং পুরো গ্রিড ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।"
তিনি জানান, বিতরণ ব্যবস্থার এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা ও নতুন বিদ্যুৎ উৎস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
बहुপ্রত্যাশিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আগামী আগস্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা বলা হলেও, পুরো গ্রিড ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে আমাদের আরেকটু সময় লাগবে। সেই কারণে আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।'
বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও বহুল আলোচিত ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, 'ক্যাপাসিটি চার্জের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। তবে এই চুক্তিগুলো যেহেতু রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আওতায় করা হয়েছিল, তাই নতুন সরকার চাইলেই তা হুট করে বাতিল করতে পারে না। বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় এই চুক্তিগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। আইনগত কোনো সুযোগ থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে আইনগত ও কারিগরি—উভয় দিকই বিবেচনা করতে হবে। কারণ তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Comments