সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সিপিজে’র ১০ দফা সুপারিশ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক এই সংগঠনটি নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানায় এবং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের পরিবেশ উন্নত করতে ১০ দফার একটি সুপারিশমালা তুলে ধরে।
সিপিজে'র এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, 'বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই প্রতিটি নতুন সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বনের দাবি করলেও, ক্ষমতার ১০০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও কার্যকরী অগ্রগতি বেশ সীমিত পর্যায়েই রয়ে গেছে।'
সংস্থাটি মনে করে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, জামিন ঠেকানোর লক্ষ্যে একের পর এক নতুন মামলা দায়ের এবং 'অন্যায় তকমা' দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করার মাধ্যমেই কেবল সংবাদপত্রের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত ও ফারজানা রূপার বিষয়টি টেনে আনা হয়।
সিপিজে'র প্রধান সুপারিশসমূহ
বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে সিপিজে যে ১০টি সুপারিশ হচ্ছে:
-
সাংবাদিকদের হেনস্তা ও আটক ঠেকাতে 'অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩' বাতিল বা সংশোধন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির মানহানির ধারা বাতিল এবং 'বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪' সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
-
'সাইবার সুরক্ষা আইন' বদলে ফেলাসহ 'সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯' এর সংস্কার চাওয়া হয়েছে, যাতে এগুলোর অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের নিশানা করা না যায়। একই সাথে এই আইনগুলোর অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া পূর্বের মামলাগুলো স্বচ্ছ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রত্যাহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
-
ঢালাও অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিলের বর্তমান পদ্ধতি সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলা (SLAPP) ঠেকাতে আইনি সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।
-
সাংবাদিকদের 'সাবেক সরকারের এজেন্ট', 'ভারতবিরোধী' কিংবা 'ইসলামবিরোধী'র মতো নানা তকমা দেওয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। এই ধরনের তকমা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং তথ্যের উৎস বা সোর্সদের মনে ভীতি তৈরি করছে।
-
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সিপিজে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত 'গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ'-এর মাধ্যমে এমন কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা উল্টো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে। এর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত 'গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন' স্বাধীন সাংবাদিকতা ও এর নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে যেসকল ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
Comments