জোরপূর্বক শ্রম ইস্যু: বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যে নতুন ট্যারিফ বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং মার্কিন বাণিজ্যের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর – ইউএসটিআর এই ঘোষণা দেয়। চলতি বছরের শুরুতে প্রধান মার্কিন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন প্রয়োগের অবস্থা নিয়ে পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তের পর এ প্রস্তাব আনা হয়।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন,বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি বলেন,"আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি রোধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।" তার মতে,বৈশ্বিক বাণিজ্য যেন জোরপূর্বক শ্রমচর্চাকে উৎসাহিত না করে, সে জন্য সরকারগুলোর আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ইউএসটিআর এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ,ভারত,চীন,জাপান,যুক্তরাজ্য,ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ ৫৪টি অর্থনীতিকে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া কানাডা, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ আরও ছয়টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী,যেসব দেশের আংশিক জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আমদানি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি আছে,তারা অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে,যেসব দেশের এমন ব্যবস্থা নেই,তাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
তবে এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে,যার ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রস্তাবের বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময় ৬ জুলাই। এরপর ৭ জুলাই থেকে সেকশন ৩০১ প্যানেলের প্রকাশ্য শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সেকশন ৩০১ বাণিজ্য কৌশলের অংশ,যার মাধ্যমে চলতি বছরের শেষ দিকে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া অস্থায়ী ব্যবস্থাগুলোর পরিবর্তে দেশভিত্তিক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এছাড়া ইউএসটিআর বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য একটি পৃথক ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে,যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নির্ধারিত পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য কম হারের সেকশন ৩০১ শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে কোন দেশগুলো এ সুবিধা পাবে এবং কোটার পরিমাণ কত হবে,তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।
Comments