এল নিনোর প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পর্যায়ক্রমিক উষ্ণায়নের ঘটনা—যা 'এল নিনো' নামে পরিচিত, তা আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক জলবায়ুতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হওয়া এই জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে খরা, অতিবৃষ্টি এবং তীব্র তাপপ্রবাহের মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচেও স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি উষ্ণতা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই জলবায়ু প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো সম্ভাব্য তীব্র আবহাওয়ার জন্য বিশ্বের দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরন ও ঋতুচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
এর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকার শিং অঞ্চল এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিপরীত দিকে, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির শঙ্কা দেখা দেয়। পাশাপাশি এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন বা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিতেও ইন্ধন যোগায়।
ডব্লিউএমও-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এল নিনো বারবার বা আরও শক্তিশালী হয়ে দেখা দিচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও না পাওয়া গেলেও, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এল নিনোর প্রভাবকে বহুগুণে মারাত্মক ও সংহারী করে তুলছে। বিগত ২০২৩-২৪ সালের তীব্র এল নিনোর প্রভাবেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এটিকে একটি 'জরুরি জলবায়ু সতর্কতা' হিসেবে অবিহিত করে তিনি বিশ্বনেতাদের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত কমিয়ে নবায়নযোগ্য ও সবুজ শক্তির দিকে মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়েছেন।
Comments