গণমাধ্যমকে স্বাধীন রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: তথ্যমন্ত্রী
মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অনৈতিক বাধা বা হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি অবলম্বন করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বচ্ছ রাখার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আজ সোমবার (১ জুন) সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মূলধারার সাংবাদিকদের ওপর নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে এটি স্পষ্ট যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। গণমাধ্যমের প্রধান কাজই হচ্ছে সমাজের সব চিত্র জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা। আর এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূলধারার সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
বিশেষ করে টেলিভিশন ও লাইভ মিডিয়ার পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচারে তথ্য বিকৃত করার সুযোগ থাকে না। লাইভ মিডিয়া যত বেশি বাড়বে এবং স্বচ্ছ থাকবে, সমাজের জন্য ততই মঙ্গল। প্রধানমন্ত্রী বারবার জবাবদিহিতার সংস্কৃতির কথা বলেছেন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকেও সেই আলোকেই বিচার করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, মালিকপক্ষ ও সাংবাদিক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বর্তমানে কোনো প্রকার সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢালাওভাবে হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো মূলধারার সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় হয়রানি বা হেনস্তা করা যাবে না। তবে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার চলবে।"
বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে মূলধারার গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। একই সাথে তিনি আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
Comments