এনবিআর ভেঙে দুই ভাগ করার তোড়জোড়: কাল বৈঠক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) করনীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম সম্পূর্ণ আলাদা করতে নতুন আইনের খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ কমিটি আগামীকাল শনিবার (২৩ মে) প্রথম বৈঠকে বসছে।
আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই এই 'রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিল' উত্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্র ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে গঠনের পর থেকে এনবিআর একই সাথে করনীতি তৈরি ও তা আদায়ের কাজ করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। এর মূল কারণগুলো হলো: একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ব্যাহত হয়। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে একই সাথে এনবিআর চেয়ারম্যানের দ্বৈত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে তিনি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে বাধ্য হন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো রাজস্ব খাতের সংস্কার। এই সংস্কারে ধীরগতির কারণে আইএমএফ ইতোমধ্যে দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় স্থগিত রেখেছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদও সম্প্রতি এক সেমিনারে উল্লেখ করেন, একই সংস্থা নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকলে সেখানে স্বার্থের সংঘাত অবশ্যম্ভাবী।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে তা সংশোধিত হয়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস করার আগে খসড়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যেমন: আগের অধ্যাদেশে 'উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন' কর্মকর্তার কথা বলা হলেও, নতুন প্রস্তাবে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল অগ্রাধিকার নয়, বরং রাজস্ব আহরণ খাতেই সরাসরি অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার কঠোর বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের (মূসক) জন্য পৃথক পৃথক অধিদপ্তর গঠন করা হতে পারে।
নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য সাংগঠনিক কাঠামো, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং কাজের পরিধি নির্ধারণের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এছাড়া এই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশন বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে। আগামীকাল শনিবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেই এসব জটিলতা নিরসন করে দ্রুত বিলটি সংসদে তোলার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
Comments