গোপালগঞ্জে আলোচনায় ‘দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়’ ও ‘ইরফান’
মাথা ও পিছের অংশ সাদা আর পুড়ো শরীর কালো। বিশাল দেহ, লম্বা পা আর পাহাড়সম আকৃতি। সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির নাম রাখা হয়েছে 'দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়'। প্রায় ৪৮ মণ ওজনের এই গরুটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। কোরবানির হাট কাঁপাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশাল আকৃতির গরু 'দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়'।
অপরদিকে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গরু 'ইরফান'। সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে "ইরফানকে"। প্রায় ২০ মণ ওজনের এই গরুটি ইতোমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এই গরুটি আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে খামারিরা। প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, এসব গরু বিক্রিতে সহায়তা করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মনিরুজ্জামান মৃধার বাড়িতে গেলে দেখা মিলবে বিশাল আকৃতির গরুটি। সাদা-কালো রঙের হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির নাম দিয়েছেন 'দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়'। নামের সঙ্গে মিল রেখেই যেন তার আকৃতি। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর বয়সেই গরুটির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি। আর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট। ওজন প্রায় ৪২ মণ।
খামারি মনিরুজ্জামান মৃধা বলেন, পাঁচ বছর আগে নড়াইলের পহরডাঙ্গা হাট থেকে ছোট অবস্থায় গরুটি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর থেকে নিজের বাড়িতেই প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে বড় করেছেন কালো পাহাড়কে। গমের ভুষি, চালের গুঁড়া, খড়, সয়ামিলের ভুষি ও ভুট্টার পাউডার তার নিয়মিত খাবার। এমনকি আপেল, মাল্টা, কমলাও রয়েছে তার খাদ্য তালিকায়। প্রতিদিন গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় খামারির খরচ হয় প্রায় এক হাজার টাকা। গত বছরের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তবে ন্যায্য দাম পেলেই কালো পাহাড় বিক্রি করবেন।
অপরদিকে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর গ্রামের লীলা বেগম। তিন বছর ধরে পালের শাহিওয়াল জাতের একটি গুরুটিকে পরম যত্নে লালন পালন করেছেন তিনি। কাঁচা ঘাস, গম-ভূট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষিসহ দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। গরুটির আকৃতি দেখে ওর নাম দেয়া হয়েছে 'ইরফান'। প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের এই গরুটির দাম ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। তবে ক্রেতারা দর দাম করে গরুটি নিতে পারবেন। চাহিদা মত দাম পেলে গরুটি বিক্রি করে দিবেন।
খামারী লীলা বেগম বলেন, পরম যত্নে গরুটিকে লালন পালন করেছেন তিনি। প্রতিদিন গরুর পিছনে তার খরচ হয় ১ হাজার টাকা। এবারের ঈদে গরুটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের 'ইরফান' এর দাম ধরা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। তবে কেউ নিতে আগ্রহী হলে দরদাম করে গরুটি বিক্রি করে দেবেন।
মনিরুজ্জামান মৃধার "দক্ষিণ বঙ্গের কালো পাহাড়" আর লীলা বেগমের গরু 'ইরফান' হৈচৈ ফেলে দিয়েছে পুরো এলাকায়। যা আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিনই 'ইরফানকে" দেখতে ভীড় করছেন গ্রামবাসী ও ক্রেতারা। আর গ্রাম জুড়ে এমন গরু থাকায় খুশি তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেন, দেশীয় খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ফলে এসব গরুর চাহিদা রয়েছে। এসব গরু যাতে হাটে নিয়ে যাওয়া যায় তার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Comments