‘আগে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করুন, তারপর বিধি-নিষেধ দেবেন’
টেলিভিশন সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে 'অনাপত্তিপত্র' (এনওসি) বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ। তিনি বলেন, "আগে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেন, তারপর বিধি-নিষেধ দেবেন, আমরা মানব।"
আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন 'অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স' (অ্যাটকো) গত রবিবার (১৭ মে) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ব্রডকাস্ট সাংবাদিকদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আগের প্রতিষ্ঠানের এনওসি বাধ্যতামূলক করে। এর ব্যতিক্রম হলে আইনি ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে ফাহিম আহমেদ বলেন, "দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ কখনোই অনুকূলে নয় এবং সাংবাদিকদের অবহেলার শেষ নেই। এর মধ্যে অ্যাটকো থেকে যে কঠিন নিয়ম-নীতিমালার কথা বলা হয়েছে, তাতে সংবাদকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ।" বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও ইতিমধ্যে এই নির্দেশনাকে শ্রম আইন ও সাংবিধানিক অধিকার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করেনি এবং আইন ভঙ্গের মতো কোনো কাজও করা হয়নি।"
যেকোনো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, "আগের সরকার থেকে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি এবং তারা আমাদের কাজে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।"
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে সিইসি বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহায়তা ছাড়া কোনো নির্বাচন সফল করা সম্ভব না।" তিনি দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সহিংসতা ও রক্তপাতহীন একটি নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
Comments