ইরানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন মার্কিন নারী গুপ্তচর, খোঁজ দিলে ২ লাখ ডলার পুরস্কার
ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মণিকা উইট-এর সন্ধানে ২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পলাতক এই নারী সম্ভবত এখনো ইরানকে বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজে সহায়তা করে যাচ্ছেন।
মণিকা উইট মার্কিন বিমানবাহিনীর 'অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন'-এ একজন কাউন্টার-ইনটেলিজেন্স (পাল্টা-গোয়েন্দা) কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন মার্কিন গোয়েন্দা মিশনে অংশ নেন। তবে ২০১৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইরানে চলে যান বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তার অনুপস্থিতিতেই মার্কিন আদালতে গুপ্তচরবৃত্তির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, মণিকা উইট ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা প্রভাবিত ও প্রলুব্ধ হয়ে তাদের পক্ষে কাজ শুরু করেন। পক্ষত্যাগের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'অত্যন্ত গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচি' এবং একজন শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার আসল পরিচয় ইরানের কাছে ফাঁস করে দেন। প্রসিকিউটরদের মতে, এর ফলে ওই কর্মকর্তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মণিকা ইরানের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পাচার করেছিলেন। এর বিনিময়ে ইরান সরকার তাকে বসবাসের জন্য আবাসন, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দেয়।
এফবিআই-এর ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের কাউন্টার-ইনটেলিজেন্স বিভাগের স্পেশাল এজেন্ট ড্যানিয়েল উইয়ারজবিকি এক বিবৃতিতে বলেন, "এফবিআই এই ঘটনাটি ভুলে যায়নি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা বিশ্বাস করি, এমন কেউ অবশ্যই আছেন যিনি মণিকা উইট-এর অবস্থান সম্পর্কে জানেন। আমরা তাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাচ্ছি।"
গোয়েন্দাদের ধারণা, মণিকা উইট বর্তমানে ইরানেই অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মণিকা ছাড়াও চারজন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে কম্পিউটার হ্যাকিং ও পরিচয় গোপনের মামলা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এই মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে থাকা তথ্যদাতাদের আকৃষ্ট করতে চাইছে।
Comments