আরও দুই মামলায় জামিন বিচারপতি খায়রুল হকের: কারামুক্তিতে বাধা নেই
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং রায় জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আরও দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এর ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়। যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর এলাকায় যুবদলকর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদসহ অন্যান্য নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে শাহবাগ, ফতুল্লা ও বন্দর থানায় তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে গত ৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে থাকা আগের পাঁচটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ তা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। তবে গত ২৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে জামিন বহাল রাখেন।
সর্বশেষ আজ (মঙ্গলবার) নিম্ন আদালতে বিচারাধীন আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ায় তার চূড়ান্ত মুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।
বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যাওয়ার পর তিনি টানা তিন মেয়াদে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আমলেই সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে নানা আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলমান।
Comments