নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে বিপ্লব ও সংহতি দিবস
আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন ও নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের ইতিহাস যুক্ত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকা বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অধ্যায় সাজানো হচ্ছে। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং এর গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ অধ্যায় থাকবে। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, ১ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের ইতিহাস নির্মোহভাবে তুলে ধরা হবে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা অস্পষ্টতা কাটিয়ে বিস্তারিত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন আন্দোলনে অবদান রাখা অন্যান্য জাতীয় নেতাদের সঠিক ইতিহাসও ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বেশ কিছু নতুন বই ও বিষয় যুক্ত হচ্ছে:
-
চতুর্থ শ্রেণিতে 'শারীরিক শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য' এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে 'লার্নিং উইথ জয়' (আনন্দময় শিক্ষা) ও 'কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা' বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
-
প্রতিটি ক্লাসে খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকবে, যার মূল্যায়ন হবে ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে।
-
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে সেকেলে পাঠ বাদ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তত্ত্বাবধানে এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞ আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে এই পরিমার্জনের কাজ চলছে। পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণে আধুনিকতা ও স্পষ্টতা আনা হবে। ইতিহাসের বর্ণনায় যেন কোনো অতিশয়োক্তি না থাকে এবং তা যেন সত্য ও নির্মোহ হয়, লেখকদের সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগামী জুনের মধ্যেই পরিমার্জনের কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। ২০২৮ সাল নাগাদ নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
Comments