এপস্টেইনের সেই রহস্যময় ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ্যে
মৃত্যুর সাত বছর পর আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের কারাগারে তার রহস্যময় মৃত্যুর আগে লেখা একটি কথিত 'সুইসাইড নোট' প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক। বুধবার (৬ মে) আদালতের নির্দেশে এই নথিটি জনসমক্ষে আনা হয়।
প্রকাশিত ওই চিঠিতে এপস্টেইনের চরম ক্ষোভ ও একরোখা মানসিকতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল: "তারা আমাকে নিয়ে মাসের পর মাস তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! বিদায় নেওয়ার সময়টা নিজের মতো করে বেছে নিতে পারাটা দারুণ একটা ব্যাপার। তোমরা কী চাও আমি কী করব—কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এসবের কোনো মানে হয় না!!"
তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, নোটটিতে কোনো স্বাক্ষর নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই চিঠির সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এটি প্রকাশের অনুমতি দেন।
এপস্টেইনের সেলের কয়েদি ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন দাবি করেন, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের আত্মহত্যার প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এই নোটটি পান। এর কয়েক সপ্তাহ পরই এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। টারটাগ্লিওন বর্তমানে চার খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।
আইনজীবীদের মতে, এপস্টেইন যেন পরে তার সেলমেটের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলতে না পারেন, সেজন্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ার হিসেবে চিঠিটি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। এমনকি হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এটি পরীক্ষা করানোর দাবিও তুলেছেন তারা।
২০১৯ সালে মেডিকেল এক্সামিনার এপস্টেইনের মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' বলে ঘোষণা করলেও তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় অনেকেই মনে করেন, তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই কথিত সুইসাইড নোট প্রকাশ পাওয়ায় তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো নতুন মাত্রা পেল।
এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি বারবার দাবি করেছিলেন যে, তার আত্মহত্যার কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ এই নোটে 'নিজের মতো বিদায় নেওয়ার' কথা বলায় বিষয়টিকে বেশ রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
Comments