যে ছয় কারণে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এত বড় জয়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে হটিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে ভারতীয় জনতা পার্ট (বিজেপি)। প্রবণতা অনুযায়ী, দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।
যে কারণগুলো ভোটে অবদান রেখেছে সেগুলো কী কী দেখা যাক-
শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর
গত ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা-এই ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে তারা। অন্যদিকে, তৃণমূল নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করায় তা ভোটারদের কাছে তেমন প্রভাব ফেলেনি।
শুভেন্দু ফ্যাক্টর
একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহচর শুভেন্দু অধিকারী এখন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজেপি কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে মমতাকে নিজের আসন রক্ষায় বেশি সময় দিতে হয়েছে।
'বহিরাগত' তত্ত্বের মোকাবিলা
তৃণমূলের 'বহিরাগত' তত্ত্বকে সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বিজেপি। দলের নেতারা বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে গিয়েও বার্তা দেন যে বিজেপি বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নয়।
নারী ভোটারদের প্রভাব
তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে নারীভিত্তিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রেখেছিল। তবে এবার বিজেপি নারী নিরাপত্তাকে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও চাকরিতে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সংগঠন শক্তিশালীকরণ
২০২১ সালের তুলনায় বিজেপি এবার অনেক বেশি সংগঠিত ছিল। বুথ পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার কাজ করেছে দলটি। অভিজ্ঞ নেতাদেরও আবার সামনে আনা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংকের পরিবর্তন
মুসলিম, মতুয়া এবং অভিবাসী ভোটারদের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভোটের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে, যা বিজেপির পক্ষে গেছে। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন কৌশল ও ইস্যুর সমন্বয়ে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি।
Comments