মালয়েশিয়া ২০ বছরে নিঃস্ব হয়ে প্যারালাইজড দেলোয়ার দেশে ফিরলেন প্রবাসীদের সহায়তায়
পারিবারিক স্বচ্ছলতার আশায় ২০ বছর আগে চাকুরী নিয়ে মালয়েশিয়ায় যান চাঁদপুরের মো. দেলোয়ার হোসেন (৫১), কাজ করতেন দেশটির জহরবারু রাজ্যের কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টে। পরিস্থিতির শিকার হয়ে বৈধ পাসপোর্ট পারমিট, কর্ম হারিয়ে স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যান দেলোয়ার। তিনি চলাফেরা ও কথা বলতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করতে দেখে মানবিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন বাংলাদেশী তরুণ প্রবাসী ও স্থানীয় মালয়েশিয়ান নারী। দেলোয়ারের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে দূতাবাস ও পরে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন নিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট করে স্পেশাল পাস সংগ্রহ করে দেশে স্বজনের কাছে পাঠানোর ব্যাবস্থা করলেন মালয়েশিয়ান নারী ড. চাঁদনীসহ বাংলাদেশী কিছু উদ্যেমী যুবক মোঃ শামীম সরকার, মাহফুজুর রহমান
মো. আরাফাত, মো. আব্দুল্লাহ, মো. দিপু, মো. আদনান, আলমগীর হোসেন, মো. আশরাফ, মো. হেলাল হোসেন, রাজিব হোসেন, মো. সোহেল, আজিজুল হকসহ আরও অনেকে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে দেলোয়ার দেশে ফিরলেন। এছাড়াও এসপ্তাহে তারা শরীয়তপুরের নড়িয়ার আমির হোসেন তালুকদার কে ৩০ বছর ধরে একটি নির্জন জঙ্গলে থাকা অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে ট্রাভেল পারমিট ও স্পেশাল পাস করে সার্বিক সহায়তা করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন বাংলাদেশে আমির হোসেন যাওয়ার পর তাদের অবদানের কথা না বলে ভিন্ন খাতে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় একটি কথা প্রচলিত আছে এখানে গুরুতর অসুস্থহওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু, তার কারণ এখানে দেখার কেউ থাকে না তাছাড়া হাসপাতালে যে বিল উঠে এটা কোন প্রবাসীর পক্ষে পে করা সম্ভব হয় না বিভিন্ন জটিলতার কারণে। মালয়েশিয়ার হাসপাতালের বিল সিঙ্গাপুর থেকেও বেশি। এই উদ্যেমী প্রবাসী যুবকরা জানান তারা দীর্ঘ সময় ধরে এসব অসুস্থ রোগীদের মানবিক সহযোগিতা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও এসব অসহায় প্রবাসীর পাশে থাকবেন বলে তাদের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দেলোয়ার দেশে যাওয়ার পর তার চিকিৎসা ও পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন।
Comments